হিজরাদের চাদাবাজিতে অতিষ্ঠ যাত্রাপথ। রাব্বি হাসান শ্রাবণ। পাবনা প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

হিজরাদের চাদাবাজিতে অতিষ্ঠ যাত্রাপথ। রাব্বি হাসান শ্রাবণ। পাবনা প্রতিনিধি।

 

নারী এবং পুরুষ বাদেও তৃতীয় লিঙ্গধারী শ্রেণীর মানুষদের হিজরা সম্প্রদায় হিসেবে বলা হয়। যাদের প্রতি করুণা কিংবা দয়াপরবশ হয়ে! থাকে আমাদের সমাজের মানুষ, যাদের অধিকার আদায়ে এদেশে আছে অনেক সংগঠন ও সংস্থা, আর বাংলাদেশ সরকার তাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে অনেক আগেই। তবুও সারাদেশে যেনো এই হিজরা নাম এক অজানা আতংক হয়েই আছে এখনো।

বাস, ট্রেন, জাহাজ সহ সকল পরিবহণ আর দোকান পাঠে তাদের চাদাবাজিতে অতিষ্ঠ যাত্রাপথের মানুষগুলো।
রংপুর থেকে পাবনা বাসে করে আসার সময় দেখা যায় কয়েকটি স্থানে বাস থামিয়ে তারা জোর করে গাড়িতে উঠে করে চাদাবাজি। এছাড়াও রেল স্টেশন গুলোতে ট্রেনে তো যেন তাদের ই রাজ্য।
রংপুর হতে ছেড়ে আসা বিভিন্ন বাসে উঠে তারা যাত্রীদের থেকে টাকা দাবি করে এবং কেউ টাকা দিতে আপত্তি করলে তার সাথে শুরু করে অশ্লিলতা, চলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়ে উত্যক্ত করা, আবার কখনো অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালী করেতেও তারা দ্বিধান্বিত হয়না।

হিজরারা শহরে গ্রুপিং হয়ে পরিচালনা করে তাদের এউ চাদাবাজি শহরের মর্ডান মোর এলাকা হতে বাস থামিয়ে একদল উঠে পীরগন্জ গাড়িতে, আবার একদল সাদুল্লাপুর বাসস্ট্যান্ড হতে বাসে উঠে, আবার অন্য দল পলাশবাড়ি হতে উঠে, একদল উঠে বগুরা হতে, এভাবেই রংপুর হতে ছেড়ে আসা দূর পাল্লার গাড়িতে চালায় তাদের চাদাবাজি।

বাসের যাত্রীদের হেনস্তা করা ছাড়াও তারা বাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা মানুষদের সাথেও প্রকাশ করে তাদের উগ্রতা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দাবি করে থাকে, কেউ দিতে আপত্তি জানালেই তার উপর নেমে আসে যৌন হয়রানি সহ অশ্লিল সব অংগভংগি।

পরিবহণ ছাড়াও তারা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এবং দোকানপাঠে নিয়মিত চাদাবাজি চালায়, যা কিনা শহরবাসির জন্য যেনো এক হঠাৎ উদয় হওয়া বিপদের নাম। শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত এই পাবনা বগুরা রংপুর বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরাও শিকার হচ্ছে এদের হাতে, অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এদের অশ্লিলতা দেখে শিখছে নোংরামি, আর শহরে চলাচল করা নারী পুরুষ কিংবা কখনো পরিবার নিয়ে বের হওয়া অনেকেই হচ্ছেন বিব্রত। শহরে ডিউটিরত পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে হিজড়ারা এভাবে চাঁদাবাজি ও অসভ্যতাতে লিপ্ত অথচ আইন কিংবা তাদের উপর খবরদারি করার মত যেনো কেউ ই নেই এই শহরে।

তাদের কাজে কেউ বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, প্রকাশ্যেই কাপড়-চোপড় খুলে ফেলে প্রকাশ করে গোপন অঙ্গ, এছাটাও চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে থুথু নিক্ষেপ, বিশেষ ভঙ্গিতে হাততালি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে যা কিনা শহরে থাকা সভ্য মানুষের জন্য বিভ্রান্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

সাধারনত হিজড়াদের টাকা নেয়ার বিষয়টিকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন। এটি নিয়ে কোনো মামলা বা জিডি করা হয় না। কিন্তু যাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হচ্ছে কিংবা যারা তাদের এমন হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছেন তারা বুঝতে পারেন এর যন্ত্রণা কী, শহরে সবাই ভয় পায় এদের কেননা প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

বিজ্ঞাপন

cloudservicebd.com