হাকালুকিতে তাঁবুবাস ৩ ও ৪ জানুয়ারি

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

হাকালুকিতে তাঁবুবাস  ৩ ও ৪ জানুয়ারি

মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকি হাওরে বসবে শীতকালীন তাঁবুবাস। ‘হাকালুকি ক্যাম্প’ নামের এ তাঁবুবাস হবে ৩ ও ৪ জানুয়ারি। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাছরাঙা এর আয়োজন করছে। প্রকৃতিপ্রেমী আগ্রহী যে কেউ এতে অংশ নিতে পারবেন। এর জন্য খরচ পড়বে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা। তবে ৪ থেকে ১১ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে খরচ ৩ হাজার টাকা। নিবন্ধনের শেষ তারিখ ২৫ ডিসেম্বর। ৩ জানুয়ারি সকাল থেকে ক্যাম্প শুরু হবে। শেষ হবে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যার আগে। খরচের আওতায় থাকবে (বড়লেখা পর্যন্ত যাতায়াত নিজ দায়িত্বে) সকাল ও বিকালের নাশতা, দুপর ও রাতের খাবার, সুজানগরের আগর-আতরের কারখানা, মাধবকু- জলপ্রপাত ও চা-বাগান এবং ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার হাল্লা গ্রামের পাখিবাড়ি পরিদর্শন। সেই সঙ্গে থাকছে হাওরপাড়ের ধামাইল গীত ও শাহ আবদুল করিমের গান নিয়ে বাউল সন্ধ্যা ও বাউল তত্ত্বের আড্ডা। আরও থাকছে নৌকায় বেড়ানো ও মাছ ধরার সুযোগ। আর খাবারের তালিকায় থাকছে স্থানীয় চালের ভাত, হাওরের মাছ, শাক-সবজি, ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গা পিঠাসহ স্থানীয় লোকজ খাবার।
হাকালুকি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর। এর আয়তন প্রায় ১৮১.১৫ বর্গকিলোমিটার। পাঁচটি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে এটি বিস্তৃত। এর ৪০ শতাংশ বড়লেখা, ৩০ শতাংশ কুলাউড়া, ১৫ শতাংশ ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০ শতাংশ গোলাপগঞ্জ ও ৫ শতাংশ বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত। এ হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ জুড়ী ও সোনাই নদী থেকে। এর উত্তর-পশ্চিমে কুশিয়ারা নদী। বর্ষায় এ হাওর প্লাবিত হয়ে বিশালরূপ ধারণ করে। তখন এর পানির গভীরতা থাকে ২ থেকে ৬ মিটার।
ছোট-বড় মিলে এ হাওরে রয়েছে প্রায় ২৩৮টি বিল। এসব বিলে প্রায় সারা বছর পানি থাকে। এসব বিল নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাস। মৎস্যবিজ্ঞানীদের মতে, এ হাওর ‘মাদার ফিশারি’ নামে অবিহিত। বিরল প্রজাতির অনেক মাছও এখানে আছে। এ কারণে এ অঞ্চলে পেশাদার-মৌসুমি বা খোরাকি জেলেদের বসবাস রয়েছে। মাছের পাশাপাশি হাকালুকির বিলগুলোতে নানা প্রজাতির বিরল উদ্ভিদ রয়েছে। গবেষকদের মতে, এ হাওর ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ ও ২০ প্রজাতির সরীসৃপের আবাস। অবশ্য মানুষ সৃষ্ট নানা কারণে অনেক প্রজাতির মাছ ও জলজ উদ্ভিদ প্রায় বিলুপ্ত। এ হাওরের কিছু বিলে ধান চাষ ও শুকনো মৌসুমে অনেক বিলে গরু-মহিষ চরানো হয়।
এসবের পাশাপাশি এ হাওর আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পরিযায়ী পাখির জন্য। শীত মৌসুমে এ হাওরে প্রায় ১০০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে কিছু পাখি বিপন্ন বা মহা-সংকটাপন্নের তলিকায় আছে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব প্রতি বছর শীত মৌসুমে এ হাওরে পাখিশুমারি করে থাকে। ২০১৯ সালের ২৬ ও ২৭ জানুয়ারিও এ হাওরের ৪০টি বিলে জলচর পাখিশুমারি করা হয়। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ছাড়া আইইউসিএন-বাংলাদেশও এ শুমারিতে ছিল। এর নেতৃত্ব দেন পাখিবিদ ইনাম আল হক। শুমারি করা বিলগুলোর মধ্যে ছিল পরোতি, বালিজুড়ি, নাগুয়াধলিয়া, হাওয়াবন্যা, কালাপানি, রঞ্চি, দুধাই, গড়কুড়ি, চোকিয়া, উজান-তরুল, ফুট, হিংগাউজুড়ি, নাগাঁও, লরিবাঈ, তল্লার বিল, কাংলি, কুড়ি, চেনাউড়া, পিংলা, আগদের বিল, চেতলা, নামা-তরুল, মাইছলা-ডাক, চন্দর, মালাম, ফুয়ালা, পলোভাঙা, হাওর খাল, কইর-কণা, মোয়াইজুড়ি, জল্লা, কুকুরডুবি, বালিজুড়ি, বালিকুড়ি, মাইছলা, গড়শিকোণা, চোলা, পদ্মা, কাটুয়া, তেকোণা, মেদা, বায়া, গজুয়া, হারামডিঙা, গোয়ালজুড় ইত্যাদি।
শুমারিতে ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি জলচর পাখি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নাগুয়াধলিয়া বিলে ৮ হাজার ৬৭৬টি ও চেতলা বিলে ৫ হাজার ৩২৭টি। আর জলচর পাখিদের মধ্যে ৪০৫টি ছিল সৈকত পাখি। এছাড়া হুমকির মুখে আছে এমন ৬ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে ২০১৯ সালে। এসব পাখির মধ্যে আছে মহাবিপন্ন- বেয়ারের-ভুতিহাঁস; সংকটাপন্ন- পাতি-ভুতিহাঁস ও বড়-গুটিঈগল; এবং প্রায়-সংকটাপন্ন- মরচেরঙ-ভুতিহাঁস, ফুলুরি-হাঁস ও কালামাথা-কাস্তেচরা। অন্যদিকে পরোতি, বালিজুড়ি, নাগুয়াধলিয়া বিলে বিষটোপ দিয়ে মারা পাখিও দেখা গেছে।
২০১৮ সালের শুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ১০০ এবং ২০১৭ সালে ৫৮ হাজার ২৮১টি। অবশ্য তার আগের ৩ বছরের চেয়ে ২০১৯ সালে বেশি মিলেছে। সব মিলিয়ে এ হাওর-বিল প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আধার। ক্যাম্পে অংশ নিতে যোগাযোগ করা যাবে +৮৮ ০১৭১৩৪৫৭৪৬৭ নম্বরে। নিবন্ধন ওয়েবসাইট : hakalukicamp.com

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

বিজ্ঞাপন

cloudservicebd.com