সরাইলে ধর্ষিতা কিশোরীর পাশে দাড়ালো পুলিশ প্রশাসন

প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২০

সরাইলে ধর্ষিতা কিশোরীর পাশে দাড়ালো পুলিশ প্রশাসন

 

হাসনাত কাইয়ুম, সরাইল ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া)ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণের ঘটনার পাঁচ দিন পর অবশেষে নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ালো পুলিশ।

গত তিন দিন যাবত জনপ্রিয় অনলাইন ‘পুবের আলো ডট নিউজ’ এ বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্যাতিতা কিশোরীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন। তিনি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। এর আগে ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি। শুনেছি ওই কিশোরীকে বুধবার রাতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর কয়েকজন সর্দার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে একাধিকবার সালিশ করছেন। ওসি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সালিশে নিষ্পত্তির কোন বিধান নেই। যারা এ ঘটনায় সালিশ করছেন অবশ্যই সেইসব সর্দারদের আইনের আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, গত শনিবার (৭মার্চ) বিকেলে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার পিতৃহারা ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় একই গ্রামের আবদুল হাই এর ছেলে বখাটে কেফায়েত উল্লাহ। পরে ওই কিশোরীকে বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় নিয়ে নেশা দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণ করে কেফায়েত উল্লাহ। পরদিন অচেতন অবস্থায় ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত বখাটে যুবক।

এদিকে অভিযুক্ত কেফায়েত উল্লাহকে এ ঘটনা থেকে রক্ষা করতে টিঘর দক্ষিণপাড়ার পাঁচজন সর্দার একাধিকবার সালিশে বসেন। গ্রাম্য সর্দাররা হলেন- টিঘর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত সফি মিয়ার ছেলে মো. জজ মিয়া, মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে এনামুল মাস্টার, মৃত আবদুল অদুদ মিয়ার ছেলে কালু মিয়া, মৃত আজিজ সরকারের ছেলে কবির মিয়া ও মৃত মধু মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়া।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিঘর গ্রামের ইউপি সদস্য লায়েছ মিয়া বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি তাকে দেখে এসেছি, তার শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না। সরাইল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালে এসে ওই কিশোরীর জবানবন্দি নিয়ে গেছেন। ইউপি সদস্য আরও বলেন, এ ঘটনায় সালিশ করা সেই সর্দাররা এখন আতঙ্কে আছেন।

নির্যাতিতা কিশোরীর বিধবা মা বলেন, সর্দাররা সালিশ করতে করতে ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত নষ্ট করে দিয়েছে। তারা আমার মেয়েটাকে চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেয়নি। বুধবার বিকেলে আমার মেয়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা অবনতি হলে তাকে সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখন আমার মেয়েকে বাঁচানো দায় হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে ওই কিশোরী ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মেয়েটি খুবই অসুস্থ। কেফায়েত উল্লাহ নামে এক যুবক গত শনিবার মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ইসলামপুর নামকস্থানে নিয়ে যায়। এসময় কেফায়েত উল্লাহ’র সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক ছিল। পরে সেখানে নির্জনস্থানে একটি বাঁশঝাড়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে কেফায়েত উল্লাহ। তাদের মধ্যে আগেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এসব জবানবন্দি মেয়েটিই আমার কাছে দিয়েছে।

তবে মেয়ের মা বলছেন, কেফায়েত উল্লাহ’র সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দিবে বলে সর্দাররা দায়িত্ব নিয়েছেন। কয়েকবার সালিশও করেছেন তাঁরা। আগামিকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) আবার সালিশে বসবেন সেই সর্দাররা। সেই সালিশে ন্যায় বিচার না পেলে তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন। সর্দারদের কথার বাইরে গিয়ে তিনি এ ঘটনায় মামলা করতে অপরাগতা প্রকাশ করছেন।

এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভুক্তভোগীর মা বাদী না হলে আমরা (পুলিশ) কিছুই করতে পারছি না। এদিকে শনিবারের ঘটনা আজ বৃহস্পতিবার, ধর্ষণের আলামতও অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে নির্যাতিতা মেয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে এতে অপরাধী কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। আর এ ঘটনায় সর্দাররা যে ভূমিকা রাখছেন, তাদের ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিবেন।

 



এ সংবাদটি 189 বার পড়া হয়েছে.
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

নামাজের সময় সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১১ অপরাহ্ণ
  • ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
  • ৬:২৬ অপরাহ্ণ
  • ৭:৪১ অপরাহ্ণ
  • ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

নতুন আঙ্গিকে শাহজালাল টিভি