সরাইলে ধর্ষিতাকে বিয়ের দু সপ্তাহ না যেতেই তালাক

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২০

সরাইলে ধর্ষিতাকে বিয়ের দু সপ্তাহ না যেতেই তালাক

 

হাসনাত কাইয়ূম, সরাইল প্রতিনিধি : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ। ধরা পড়ে লোক জানাজানি হয়ে পড়লে বিয়ে, কিছুদিন পরে দেয়া হয় তালাক।

এতোকিছুর পরেও বসে নেই সেই ধর্ষক ও তার প্রভাবশালী পরিবার। ফের মেয়েটিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তারা নানা ফন্দি আঁটতে থাকেন। গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত ধর্ষক ভুক্তভোগী মেয়েটিকে রাস্তায় একা পেয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন। এতে মেয়েটির ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে মারধোর করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের সৈয়দটুলা গ্রামের মীরাপাড়ার মাহফুজ মিয়ার ছেলে স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনেন প্রতিবেশি ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্রীর পরিবারের লোকজন।

মেয়েটির পরিবার জানায়, বিয়ের প্রলোভনে একপর্যায়ে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেন রফিকুল ইসলাম। পরে ধরা পড়লে ও লোক জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে থানাপুলিশ হয়। কিন্তু টাকার জোরে সেই মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যান রফিক। পরে এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশ হয়। সালিশে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিতও হয়। চাপে পড়ে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ৩ জানুয়ারি মেয়েটিকে বিয়ে করতে বাধ্য হন রফিক। পরবর্তীতে বিয়ের দু সপ্তাহ না যেতেই ১৬ জানুয়ারি তাকে তালাক দেন রফিক। এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে রফিক উল্টো মেয়েটি ও তার বিধবা মা এবং ভাই, বোনসহ স্বজনদের হয়রানি করছেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবারে রফিক ও মেয়েটির ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় দু’পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। কিন্তু পুলিশ অজানা কারণে রফিকুল ইসলামের দেওয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে নথিভূক্ত করার পর ভুক্তভোগী মেয়েটির ভাইকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। আর মেয়েটির ভাইয়ের দেওয়া অভিযোগ পুলিশ টেবিলের ফাইলের স্তুপে চাপা দিয়ে ফেলে রেখেছে। এখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে “থানায় কাউন্টার মামলা নেওয়া হয় না।” অথচ হাসপাতালে রোগী ভর্তি নেই, শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার কাগজ দেখেই পুলিশ রফিকের দেওয়া মামলা ৩২৬ ধারায় রেকর্ড করেছে। এ মামলায় ভুক্তভোগী সেই মেয়ে তার বিধবা মা, ভাই, বোন, চাচা, চাচীসহ চাচাতো ভাইকেও আসামি করা হয়েছে। এ করোনা পরিস্থিতিতেও পুলিশের ভয়ে এখন তারা বাড়িছাড়া।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের পরিবারের দাবি, ওই মেয়েটিকে লেলিয়ে দিয়ে রফিককে ফাঁসানো হয়েছিল। ফলে নিরুপায় হয়ে রফিক বিয়ে করেন। পরে দেনমোহরের টাকা দিয়ে মেয়েটি তালাক দেওয়া হয়েছে।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, সেদিনের মারামারির ঘটনায় রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

নামাজের সময় সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৬ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৪১ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫২ অপরাহ্ণ
  • ২০:১৭ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

বিজ্ঞাপন

cloudservicebd.com