মেস ভাড়া নিয়ে বিপাকে রাবি শিক্ষার্থীরা;মওকুফের সুযোগ নেই জানালো মেস মালিক সমিতি

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২০

মেস ভাড়া নিয়ে বিপাকে রাবি শিক্ষার্থীরা;মওকুফের সুযোগ নেই জানালো মেস মালিক সমিতি
ছবিঃ সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্য, রাবি ।

 

খোরশেদ আলম, রাবি প্রতিনিধি: বিশ্ব যখন অদৃশ্য এক শক্তি,কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে প্রায় পরাস্ত । বড় বড় দেশগুলোতে যখন থমকে গেছে সব কিছু। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে প্রায় সব দেশ । বিশাল জনবহুল দেশ বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়।

 

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।প্রথম ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কয়েকদিন বন্ধ ঘোষণা হলেও ধাপে- ধাপে বৃদ্ধি করা হচ্ছে ছুটির মেয়াদ ।

 

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে তার ভাষণে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের । অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা টিউশনির টাকায় মেস ভাড়াসহ তাদের পড়াশোনার খরচ নিজের আয়ে বহন করে থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে পড়ছে বিপাকে ।

 

দীর্ঘ ছুটিতে কয়েকমাসের মেস ভাড়া দিতে হিমসিম খেতে হবে এমন দুশ্চিন্তায় দিন পাড় করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও । মেস ভাড়া বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাদের অভিমত।

 

কৃষক পরিবারের সন্তান ও রাবি’র বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন ,দেশের এই সংকটকালে মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দাঁড়িয়েছে মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের । যেহেতু করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালেরর জন্য স্হগিত ।অনেকেই টিউশনি করা বা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে নিজের খরচ বহন করে । কিন্তু এখন সেই পথ বন্ধ । এমনত অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় মেস মালিকদের উচিত ভাড়া মওকুফ করা ।

 

মেস ভাড়া নিয়ে থাকা নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ও ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইয়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম কুহেলি বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো তাদের জীবন ধারণ করতে হিমশিম খাচ্ছে,এ সংকটময় মুহূর্তে কিভাবে মেসের এতটাকা পরিশোধ করবো। মেস মালিকদের মেসের ভাড়া মওকুফ করার দাবি জানাচ্ছি ।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তারিফ হাসান মেহেদী বলেন, প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষার্থীর জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। যাদের সিংহভাগ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের আশেপাশের মেসসমুহে অবস্থান করে থাকে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে কাজ হারিয়েছে এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। সুতরাং তাদের জীবনে নেমে এসেছে দূর্দশা।বিষয়টি মেস মালিকদের মানবিকভাবে দেখা উচিত। ভাড়া মওকুফ জরুরি। যদি এই পরিস্থিতি থাকে দেশে তাহলে, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মেসভাড়া দেওয়া সম্ভব না বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেস ও বাসা ভাড়া প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর লুৎফর রহমান জানান, করোনা ভাইরাসে কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সকল শিক্ষার্থীর মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। আর অধিকাংশই বাহিরে থাকায় এ মুহূত্বে মেস ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে। ইতিপূর্বে মেস মালিকদের সাথে ভাড়া মওকুফের বিষয়ে কথা বলেছি কিন্তু তাদের তেমন সাড়া পাইনি। তারা বলেছেন,মেস ও বাসা ভাড়া দিয়েই তাদের সংসার চলে, পুরোপুরি মওকুফ করার দাবিটা তাদের জন্য অমানবিক। প্রক্টর আরো বলেন, মওকুফ না যদি শিথিলের ব্যাপারে মেস মালিকদেরকে প্রস্তাব রাখা হয় তবে হয়তো আমরা ভালো ফলাফল পেতে পারি বলে আমি আশাবাদী । তবুও যারা দরিদ্র ও একদম ভাড়া দেওয়া সম্ভব না সেসব শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া যাতে মওকুফ করা হয় সে বিষয়ে মেস মালিক সমিতির সদস্যদের সাথে কথা বলবো।

 

প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগরীর মেয়রের সাথে আলোচনা করে মালিক সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের ও মেস মালিকদের পারস্পরিক সমঝোতার আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অভিভাবক ।

 

ভাড়া মওকুফের প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর,কাজলা, মেহেরচন্ডী ও বুদপাড়া এলাকার (বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা) মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন বলেন, মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের সবাই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা না আবার সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের না । সবার অবস্থা বিবেচনা করে কিছু শিক্ষার্থীর ভাড়া মওকুফ ও কিছু শিক্ষার্থীর জন্য কিছুটা শিথিলের পক্ষে আমি । পুরোপুরি মওকুফ করলে মেস মালিকদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হবে । কারণ তাদের পরিবার চলে মেসের ভাড়ায় । বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে একটা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান মেস মালিক সমিতির এই নেতা ।

 

এ বিষয়ে বিনোদপুর এলাকার একজন মেস মালিক চন্দন আলম বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে সকলের উচিত মানবিক হওয়া। অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের পক্ষে এই মুহূতে মেসের ভাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার বেশিরভাগ মেস মালিকদের মেসের উপরেই নির্ভর করে সংসার চলে। তাই আমি মনে করি যাদের ভাড়া দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না এমন শিক্ষার্থীদের খবর নিয়ে ভাড়া পুরোপুরি মাফ করা ও অন্য সবার কাছে থেকে ৫০% ভাড়া নেওয়াটা যৌক্তিক।গার্ডেনিয়া,গ্রীণহাউজ,হোয়াইট হাউজ(ছেলে),হোয়াইট হাউজ (মেয়ে), সানফ্লাওয়ার নামের পাঁচটি মেসের মালিক চন্দন আলম ।

 

বিনোদপুর মন্ডলের মোড় এলাকার ছায়ানীড় ছাত্রীনিবাসের মালিক
মনজুর মোর্শেদ রকেট বলেন, শিক্ষার্থীদের ভাড়া পুরো মওকুফ করার দাবি মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব কারণ আমরাও তো মেসের উপর নির্ভরশীল। তবে কিছুটা শিথিলের পক্ষে আমি । এতে করে শিক্ষার্থী ও মেস মালিক উভয় পক্ষের সন্তুষ্টি থাকবে ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

বিজ্ঞাপন

cloudservicebd.com