মার্কিন প্রেসিডেন্সি বেপরোয়া ক্ষমতাধর হয়ে উঠছে

প্রকাশিত: ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

মার্কিন প্রেসিডেন্সি বেপরোয়া ক্ষমতাধর হয়ে উঠছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিশংসনের হাত থেকে রেয়াত পেয়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেবল তাঁকে নিয়ে নয়, সার্বিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে ট্রাম্পের দায়মুক্তি পাওয়ার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্সির ক্ষমতার পারদ আরেকটু চড়ল।

ক্ষমতার অপব্যবহার আর কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অভিশংসিত হন ট্রাম্প; কিন্তু রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট তাঁকে দায়মুক্ত ঘোষণা করে। গত বুধবার সিনেট ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়।

সত্তরের দশকে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতার পরিধি সীমিত করা হয়। পরবর্তী প্রেসিডেন্টরা সেই ক্ষমতা বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পও সেই চেষ্টা করছেন পুরোদমে। আর রিপাবলিকানরাও তাঁকে ঠেকানোর চেষ্টা করেননি বললেই চলে। ফলে সংবিধানের বরাত দিয়ে ট্রাম্প এ কথা বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি যা চাই, তা-ই করার অধিকার আমার আছে।’

সিনেটের দায়মুক্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠলেন কি না, তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। তবে ‘এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে একজন সম্রাট। রাজা হিসেবে তিনি কিছু করলে সেটা ঠিক আছে’, এমনটা বলেন ইতিহাসবিদ জন মিকহ্যাম।

অথচ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে ১৭৮৯ সালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশের শাসককে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিল আমেরিকানরা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ধারাই বজায় ছিল। মহামন্দা আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। কংগ্রেসকে টপকে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা। তাঁরা কংগ্রেসের মাথার ওপর দিয়ে স্বাধীনভাবে ক্ষমতার চর্চা অব্যাহত রাখেন এবং ধীরে ধীরে তাঁদের ক্ষমতার পরিধি বাড়তেই থাকে, এমনটা জানান জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির শার স্কুল অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্টের ডিন মার্ক রোজেল। প্রেসিডেন্টদের সেই চর্চায় ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় শিবির সমর্থন দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাচর্চার অব্যাহত ধারাবাহিকতায় বাড়তি রসদ জোগান রিপাবলিকান নেতা জর্জ ডাব্লিউ বুশ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বুশ সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নামে এমন অনেক নির্দেশ দিয়েছেন, যা সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতার বাইরে। বুশের দাবি ছিল, দেশকে রক্ষার স্বার্থে সেসব কাজ করার অধিকার তাঁর ছিল।

বারাক ওবামা পূর্বসূরি বুশের ক্ষমতাচর্চার সমালোচনা করেছেন বটে, তবে তিনিও কম যাননি। কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অনবরত বাধা পেতে থাকা ওবামা তাঁর প্রেসিডেন্সিকালে পরিবেশ, অভিবাসন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ প্রশ্নে নির্বাহী ক্ষমতাবলে নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছিলেন। এ ছাড়া বুশের সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করে পরবর্তী সময়ে ওবামা নিজেও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ড্রোন হামলার জন্য গোপনে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওবামার নির্বাহী ক্ষমতার অব্যাহত প্রয়োগে বিরক্ত হয়ে ওঠা রিপাবলিকান শিবির যখন তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল, তখন তিনি বেশ হালকা চালে জবাব দিয়েছিলেন, ‘মামলা করে দিন আমার নামে।’

ওবামার উত্তরসূরি ট্রাম্পও নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ করে চলেছেন। বিভিন্ন পদে নিজের পছন্দমতো লোক নিশ্চিত করার জন্য তিনি ‘ভারপ্রাপ্ত’ কর্মকর্তা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন, কারণ পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে হবে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য সামরিক বাজেট থেকে অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে তিনি জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছয়টি দেশের মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।  সূত্র : এএফপি।



এ সংবাদটি 185 বার পড়া হয়েছে.
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

নতুন আঙ্গিকে শাহজালাল টিভি