বাবা’কে মনে পড়ে:শহিদুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

বাবা’কে মনে পড়ে:শহিদুল ইসলাম




বাবা তুমি নেই তবুও তোমার সবুজ ছায়া এখনো মাথার উপর শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। সেই কৈশরে নীড়ে ফেরা পাখির মত তোমার ক্লান্ত দেহের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছি নির্ভারতায়। তোমার নীতি আদর্শ মনে ধারণ করে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছি। এখনো তোমার ভাবনাগুলোকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে দেখি সত্য, সুন্দর আর কল্যাণের পথেই তুমি হেঁটেছো জীবনভর। নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয় ঘটিয়েছো অবলীলায়। বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার মধ্যে কোন কার্পণ্য করো নাই কখনো।





তুমি ন্যায় অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করে দিতে সহজেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তোমার দৃঢ় অবস্থান আমাকে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছে। অন্যের সম্পদ না বলে নেয়া অর্থ চুরি করা, আর চুরি করা মহাপাপ কথাটা তোমার মুখে বহুবার শুনেছি এবং এই সত্যটাক মননে ধারণ করেছি সেই শৈশব থেকেই।





আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের স্কুল থেকে ফেরার পথে বন্ধুরা মিলে রাস্তার পাশে থাকা প্রকাণ্ড এক আম গাছ থেকে ঢিল ছুড়ে একটা আম পেরেছিলাম। বাড়ী এনে বাড়ান্দায় রাখতেই বাবার তীর্যক দৃষ্টি গিয়ে পড়ে আমের উপর। আমার পা কাঁপছে মা চোখের ইশারায় আমাকে দ্রুত ঘরে যেতে বললো। বাবা উচ্চস্বরে মা’কে ডেকে জানতে চাইলো এই আম কোত্থেকে এনেছে কার গাছ থেকে পেড়েছে? ততক্ষনে আমি দরজার আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে বাবার কথা শোনার চেষ্টা করছি। বাবা মা’কে বলছে এই আম যে গাছ থেকে থেকেই আনুক না কেন এখনই সেই গাছের যে বোটায় ঝুলে ছিলো সেই বোঁটায় যেন লাগিয়ে রেখে আসে।





বাবা ছিলেন কৃষক পরিবারের ছেলে। কৃষকদের কষ্ট অনুপাতে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মাঝে মাঝে তিনি নিজেকে চাষাভূষা বলতেন। বাবার রুদ্রমূর্তি দেখে সেদিন আমার মা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। যদি আমাকে একবার ধরে তাহলে রেহাই নেই। বাবা খুব নীতিবান ছিলেন আবার রাগীও। শুধু বাড়ীর মানুষ নয় গ্রামের অনেকেই তাকে সমীহ করে চলতেন। বাবা বাড়ীর বাইরে চলে গলে আমি দ্রুত আমটি নিয়ে সেই গাছের কাছে যাই কিন্তু বড় গাছে ওঠা সম্ভব ছিল না বলে গাছের গোড়ার একটা ডালে পাটের দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে আসি। স্বাক্ষী হিসেবে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়েছিলাম বাবা যদি সত্যতার প্রমাণ করতে বলেন।





বাবা নেই কয়েক বছর। বাবাকে খুব মনে পড়ে। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরে আমদের ছেড়ে গেছেন। আমি তখন তাহের শিপনের পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ে একটা সিনেমায় সুটিং করছিলাম ঢাকার পূবাইলে বাবা আছরের নামাজ পড়েন এবং জায়নামাজে বসা অবস্থায় স্ট্রোক করেন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আমার সাথে টেলিফোনে কথা হয় মায়ের, আমাকে বলে তোমার বাবা অবস্থা ভালো নয়। ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে ভোরে পৌঁছায়। আমাকে বাবা জিজ্ঞাসা করে তুমি এত সকালে কেন আসছো? আমি বাবাকে বলি অসুস্থতার খবর শুনে এসেছি। হাসপাতালে ভর্তি কি করতে হবে বুঝে উঠতে পারছি না । ইন্ডিয়ার ডাক্তার বলেছিল বাবা হয়তো ৩/৪ মাস বাঁচবে ওই সময়টা পার হয়ে গেছে শুনে আমি শক্তিহীন হয়ে পড়ি কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।





দ্রুত বাসার চলে আসি আসার পর নিজে বাবা নিয়ে চিন্তা করতে থাকি এবং পেশার বাড়তে থাকে এক সময় নিজে অবস্হা খারাপ হয়ে গেলে আমাকে হাসপালে নিয়ে যায়, ঘুমের ওষধ খাইয়ে রাখে। আমি তখনও হাসপালে আমার এক বন্ধু শামিম আমাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসে এসে পৌঁছািই সকালে। রিক্স থেকে নামতেই দেখি আমার বড় ছেলে শান্ত দাঁড়িয়ে।
আমার সন্দেহ দানা বাঁধতে লাগলো তাহলে কি বাবা নেই?





বাড়ি পথে অনেক মানুষের সাথে রাস্তায় দেখা কেউ স্বাভাবিক ভাবে আগের মত কথা বললো না। একজনকে বলতে শুনলান আর কিছুক্ষণ দেরি করতে পারতো না? আমি শুনেছি তবে বোধগম্য হয়নি তখন। বাড়ী ঢুকতেই বড় ভাইয়ের মেয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বললো কাকা, দাদা নেই। আমি বাবার প্রাণহীন দেহ খুঁজতেই বড় ভাই বলছে আমার কথা কেউ শুনলো না। আমি জানতাম এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে।






আমি সেদিন বাবার মৃত্য দেহ দেখেছিলাম বাবাকে দেখতে পারিনি। সেদিন শুক্রবার ছিলো আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী বাবাকে দাফন করে জুম্মার নামাজ পড়তে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।আমি তখন বাড়ী পৌছায় হাসপাতাল থেকে।





আমি এখনও বাবার আমৃত্যু লালন করা আদর্শের অনুসারী। বাবার সততা আর নিষ্ঠার কাছে অনেককেই হারতে দেখেছি। বাবার পড়ালেখা সার্টিফিকেট সর্বস্ব ছিল না। হয়তো প্রাথমিকেই আটকে গিয়েছিলো। তবে তার প্রজ্ঞালব্ধ জ্ঞান ছিলো ঈর্ষা করার মতো। আমি যখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ি বাবা আমার ইংরেজি উচ্চারণে ভুল শুধরে দিতেন। ১ লা জানুয়ারির উচ্চারণ পহেলা জানুয়ারি হবে এটা বাবার কাছেই শিখেছিলাম। তাঁর হাতের লেখা ছিলো দৃষ্টিনন্দন। এখনও অনেকেই

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

বিজ্ঞাপন

cloudservicebd.com