করোনায় করণীয়! হীরক মুশফিক

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২০

করোনায় করণীয়! হীরক মুশফিক

 

নির্মম সময়ের মুখোমুখি বিশ্ব, সচেতনতা যার একমাত্র সান্ত্বনা। প্রতিরোধ হওয়া উচিৎ প্রতিজ্ঞা।
অবহেলার কোন সুযোগ নেই বোধহয়। বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি বৃহৎ আকার নেয়ার আগেই মোকাবেলা করতে প্রত্যেককে এই মুহুর্তে নিজ জায়গা থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গত কয়েকদিনে ময়মনসিংহের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে, অন্যান্য সচেতনতা ছাড়াও কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বয়স গড়ে ৫-১৩ বছর। এবয়সে শিশুরা ভীষণ দুরন্ত হয়ে থাকে। স্কুলে এক বেঞ্চে এরা তিন থেকে পাঁচ জন পাশাপাশি বসে। সুযোগ পেলেই ছুটোছুটি করে, গলাগলি ধরে ঘুরে বেড়ায়। অভিভাবকগণ বাড়ি থেকে মাস্ক পরিয়ে পাঠালেও তারা তা বেশিক্ষণ পরে থাকেনা। করোনার ভয় এসকল কোমলমতিদের কাছে তুচ্ছ হবে সেটাই স্বাভাবিক। বলা হয় শিশুরায় দেশের ভবিষ্যৎ। করোনার প্রভাব থেকে পরবর্তী প্রজন্মের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়ানোর আগেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনাপুর্বক অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে এই সময়ের মধ্যে আনা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষিত জনশক্তিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করে, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও নিরাপত্তা দ্রব্যাদিসহ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। যারা এলাকার সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সেবা দানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
খবর পেলাম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় , নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ও ফোর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিয়েছে । শুধু তাই নয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি তাদের ১৫০ জন অতিথিকে আগামী ১৫ ই মে পর্যন্তসৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসতে বলে দিয়েছে । এছাড়াও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে বসন্তকালীন ছুটি শেষে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরাসরি ক্লাস নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। করোনায় আক্রান্ত পৃথিবীর অন্যান্য সচেতন দেশ ও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও প্রায় কাছাকাছি ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুবাদে এ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানসিকতা সহজেই বোঝার সুযোগ পেয়েছি। সবার মধ্যে দুধরনের চিন্তা ভাবনা কাজ করছে মূলত৷ এক হচ্ছে “বাংলাদেশের মানুষের হবেনা কিছুই, কারণ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয় আমাদের! আর যদি হয়েই থাকে তা হলে সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই রক্ষা করবেন৷” আর অপর পক্ষ বলতে চায়-” সময় ক্ষেপণ করলে হয়তো বড্ড দেরি হয়ে যেতে পারে, যার পরিণাম হতে পারে ভয়ংকর “। বর্তমানে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই আতঙ্কিত । প্রসঙ্গত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর একটি ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি।
“আমি রাসেল ইসলাম, শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশে করোনা ভাইরাসের অবস্থা স্বাভাবিক বলা হছে।কিন্তু এই বিশাল জনসংখ্যার দেশে ৩জন আক্রান্ত হওয়ার পরে কিভাবে অবস্থা স্বাভাবিক থাকে।
যেখানে একজন দিনাজপুর থেকে ফোন করলে, ঢাকা থেকে লোক গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে হয়,তারপর সেটা ঢাকায় এনে ল্যাবে টেস্ট করে বলতে হয়, একজনের করোনা ভাইরাসে পজিটিভ কিনা???
অন্যদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞান উন্নত দেশগুলোর মন্ত্রী ও জনগণ মৃত্যু হচ্ছে করোনায়। সেখানে আপনার অবস্থান কোথায়???”
তিনি আরও বলতে চাইছেন- “বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বাতাসের চেয়ে দ্রুততম সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কারণ সবার জানা। আমরা অধিকাংশ রুমে ৫-৬ জন করে থাকি, একই ডাইনিং টেবিলে ৬০০ জন বসে খাই,ক্লাসরুমে এক জায়গায় ৩-৪ বসি। আক্রান্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা আসলে সেটি আরও বেশি ভয়াবহ হবে। তখন অনেকেই করোনা ভাইরাস বহন করে বাড়িতে যাবে(এখনি বাড়ি যাওয়ার কথা ভাবতে পারি না,আমি আক্রান্ত হলে আমার থেকেই বাবা-মার ছড়াবে) । বিষয়টি এখনই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার সময় এসেছে”

চতুর্থত, ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসায়িক ফায়দা লোটার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে মানবিক ও দেশ-জাতির স্বার্থে আন্তরিক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য অন্তত ১৪ দিনের আগে এর লক্ষণ বোঝা যেহেতু মুশকিল, ফলে বড় কোনো দূর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা কতখানি কঠিন হবে তা অনুমেয়। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা হতে পারে টালমাটাল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দেশের অসাধু ব্যবসায়ীদের টনক নড়ছেনা বরং তারা কিছুটা সুযোগ হিসেবেই নিচ্ছে বলে মনে হয়। সদ্ব্যবহারের নজিরও মিলেছে মাস্ক ইস্যুতে। অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সাময়িক দুর্ভিক্ষের আশংকাও করছেন কেউ কেউ।

অপরদিকে করোনার উৎপত্তিস্থল উহান কিংবা হংকং যেখানে নিয়ন্ত্রণের পথে সেখানে বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যতখানি প্রস্তুতিই প্রয়োজন তার দায় অনেকাংশেই সাধারণের উপর বর্তায়। হেয়ালি, অবহেলা বা গুরুত্বহীনতা নিশ্চয়ই ভালো কিছু বয়ে আনবেনা। ফলে কেবল খবর সংগ্রহ বা প্রকাশ নয় প্রয়োজন নিজ অবস্থান থেকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ।
আতঙ্ক নয় বরং সচেতন হোন, সচেতন করুন। মানবিকতা, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার বিকল্প নেই।
হয়তো আমরা পারবো!

লেখক
হীরক মুশফিক
প্রভাষক
নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগ
জাককানইবি, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

 



এ সংবাদটি 1522 বার পড়া হয়েছে.
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নামাজের সময় সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১১ অপরাহ্ণ
  • ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
  • ৬:২৬ অপরাহ্ণ
  • ৭:৪১ অপরাহ্ণ
  • ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

নতুন আঙ্গিকে শাহজালাল টিভি