নাগরপুরের রাতের আকাশ এখন রঙ্গিন আলোর ঘুড়ির দখলে

প্রকাশিত: ৬:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

নাগরপুরের রাতের আকাশ এখন রঙ্গিন আলোর ঘুড়ির দখলে


মো. জসিউর রহমান (লুকন)-
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: বিনোদন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের মনের খোরাক জুগিয়ে এসেছে কালে কালে। মৌলিক চাহিদা মেটানোই মানুষের মূখ্য কাজ নয়। ধনী-গরীব সকলেরই প্রয়োজন হয় বিনেদনের। বিনোদন সুস্থ দেহ মন নিশ্চিত করে। আজ একবিংশ শতকের ডিজিটাল দুনিয়ায়, এই মনের খোরক যোগাতে হারিয়ে যাওয়া শখ ও বিনেদন, করোনার প্রভাবে আবার ফিরে এসেছে।
এর চিত্র ফুটে উঠেছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার রাতের আকাশে। প্রতিদিনের পড়ন্ত বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত উপজেলার আকাশ এখন থাকছে ধাকছে রঙ্গিণ আলোর ঘুরির দখলে। করোনায় কর্মব্যস্ত মানুষগুলো ঘরে থাকতে থাকতে সকল প্রকার কাজ থেকে দূরে রয়েছে। তাই এক মুঠো বিনেদনের নেশায় রং-বেরং এর বিভিন্ন ধরনের ঘুরির সাথে তাই লাগিয়ে দিচ্ছে ছোট ছোট ব্যাটারি সম্বলিত রকমারি এলইডি বাতি। অন্ধকার আকাশে উড়তে উড়তে এসব ঘুরি গুলো হরেক রকম আলো ছড়িয়ে দিয়ে মন কেড়ে নিয়েছে নির্মল বিনেদন প্রেমীদের। অনেকে আবার এসব ঘুরির সাথে যুক্ত করে দিচ্ছে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টির জন্য বিশেষ ধরনের শরু প্রস্ত শুতো বা বেতেরে শরু আশ। ঘুরিগুলো একদিকে যেমন দিচ্ছে রাতের আকাশে মিটিমিটি আলো, সেই সাথে দিচ্ছে মৃদু শব্দের ছন্দ। এই ছন্দের সাথে শুর মিলিয়ে গান ধরছে সব বয়সীরা। ঘুরি উড়ানোদের মধ্যে কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষদের মাঝে প্রতিদিন বিকেলের একটি রুটিনে পরিনত হয়েছে।
সারা বিশ্বে করোনা অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে, আবার ফিরিয়েও দিয়েছে হারিয়ে যাওয়া অনেক মূর‌্যবান সম্পদ। প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন ফিরে পাচ্ছে তার সবুজ প্রান। চারিদিকে সবুজের সমারহে ফুল-ফলের সৌরভে ভরে উঠেছে সব, তেমনি হাজারো বছরের দূষনহীন নির্মল বিনেদন ঘুড়ি উড়ানোর শখ ফিরে এসেছে ডিজিটাল যুগের মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহারকারী শিশু কিশোরদের মাঝে। আজ গ্রাম থেকে শহরের সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের মাঝে আবার ফিরে এসেছে ঐতিহ্যবাহি ঘুড়ি উড়ানোর শখ। প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে করোনায় সেচ্ছায় ঘরে থাকা মানুষগুলো।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

বিজ্ঞাপন

cloudservicebd.com