জার্মান ক্রিকেটের রূপকথা

হাদি সিলেট : ক্রিকেট এবং হিটলার নিয়ে একটি জনপ্রিয় জনশ্রুতি চালু আছে। একবার হিটলার একটা মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন একদল লোক ক্রিকেট খেলছিলো। বিকেলে একই রাস্তা দিয়ে ফেরার সময় দেখলেন তারা তখনো খেলছে। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন, এই খেলা কখনো কখনো ১০/১২ দিনও চলে। (তখন টেষ্ট ক্রিকেটের নির্দিষ্ট সময় দেয়া ছিলো না।) তাই বিরক্ত হয়ে হিটলার ঘোষনা দিলেন,

‘জার্মানী তে ক্রিকেট খেলা নিষিদ্ধ।

সেই হিটলার গত হয়েছেন প্রায় ৮০ বছর হলো। নাৎসি জাতিয়তাবাদও বিদায় নিয়েছে বহু আগেই। সেই ক্রিকেটেও এসেছে আমুল পরিবর্তন। টেষ্ট থেকে ওয়ানডে হয়ে এখন টি-টুয়েন্টির যুগে প্রবেশ করেছে ক্রিকেট। এটি এখন বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় স্পোর্টসগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এ যুগে হিটলার থাকলে ক্রিকেটের এই আধুনিকায়ন,জনপ্রিয়তা ও বানিজ্য দেখে নিশ্চয়ই তার দেশে আবার চালু করে দিতেন। জার্মান দল বিশ্বকাপ না জিতলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও বাধিয়ে দিতেন কি না কে জানে। সে যাই হোক, হিটলারের দেশেই দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে ক্রিকেট।

ক্রিকেট বিশ্বায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নানা বাণী শুনিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) সম্প্রতি জানিয়েছে দারুণ এক খবর। জার্মানিতে নাকি দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা। এই জনপ্রিয়তাকে পুজি করে ক্রিকেট সম্প্রসারনে আইসিসি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে আইসিসির কমার্শিয়াল জেনারেল ম্যানেজার ক্যাম্পবেল জেমিসন জানিয়েছেন, ‘ক্রিকেট যে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে  তার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ জার্মানি।  পাঁচ বছর আগে সেখানে ক্রিকেট দলের সংখ্যা ছিল ৫০টি, যা এখন বেড়ে ৫০০ তে দাঁড়িয়েছে। জার্মানিতে ক্রিকেট অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য আমরা সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে অনেক দেন-দরবার করেছি, এজন্য আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। আমরা চাই, যে দেশের মানুষ ক্রিকেটকে ভালবাসে, সে দেশে খেলাটি চলমান থাকুক।’

তবে জার্মানি তে ক্রিকেটের দ্রুত প্রসারে সবচে বেশী অবদান রাখছে শরনার্থীরা। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কার শরনার্থী মাধ্যমে ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ছে জার্মানদের মাঝেও। জার্মান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ‘রিশি পিল্লাই’ একজন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার।

জার্মানি তে প্রায় ৫০ হাজার আফগান শরনার্থীর বাস। এদের অধিকাংশই অবসর কাটান ক্রিকেটে। এদের সাথে স্থানীয়দের সংযুক্তিই এই খেলাটিকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলছে এখানে।
২০১২ তে যেখানে ক্রিকেট একাডেমি ছিলো ৭০ টি, এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে ২২০ তে।

জার্মানি আইসিসির সদস্যপদ পায় ১৯৯১ তে। ২০০১ সালে প্রথম শেষবারের মতো আইসিসি ট্রফি’তে অংশগ্রহন করে।
জার্মান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান ম্যান্টল তবু স্বপ্ন দেখছেন অদুর ভবিষ্যতেই আইসিসি’র বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট গুলোতে খেলবে জার্মানি। বলাই বাহুল্য, তাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে তার দেশে ক্রিকেটের এই দ্রুত প্রসার। ব্রায়ান ম্যান্টলের স্বপ্ন হয়তো অচিরেই পুরন হবে৷ হয়তো একদিন জার্মানরাই হয়ে উঠবে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি।

ফুটবলে জার্মানি কে নিয়ে গ্যারি লিনেকারের  বলেছিলেন,

‘Football is a simple game — 22 men chase a ball for 90 minutes and at the end, the Germans win.’

যেভাবে প্রসার হচ্ছে, কে জানে, ভবিষ্যতে জার্মান ক্রিকেট নিয়েও এমন কথা চালু হয় কিনা।



এ সংবাদটি 964 বার পড়া হয়েছে.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here