জামায়াত বিলুপ্তিতে সায় নেই মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের

12
সংবাদ প্রতিদিন

বিশেষ প্রতিবেদক: একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া ও নতুন নামে দল গঠনের সম্ভাব্যতা নিয়ে কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য সহ সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের পরামর্শ নিয়েছে সর্ববৃহৎ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মিশর,তুরস্ক সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইসলামী দলের শীর্ষ নেতাদেরও পরামর্শ সংগ্রহ করেছে দলটি। এতে ‘ইসলামী রাজনীতির আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ সরকার’ ও বামশক্তিগুলোর চাপে ক্ষমা চাওয়া এবং জামায়াত নিষিদ্ধের কোন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নতুন দল গঠন করে কার্যক্রম শুরু করা ‘যুক্তিহীন ও অবান্তর চিন্তা’ এমন মতামত উঠে এসেছে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্যের কাছ থেকে ‘সংবাদ প্রতিদিন’র প্রতিবেদক এসব বিষয় নিশ্চিত হয়েছেন। দলীয় সূত্র মতে,গত ১৫’ফেব্রুয়ারী দলের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক পদত্যাগ করার পর নতুন করে একাত্তরের ভূমিকা জাতির সামনে সু-স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা,দলীয় সংস্কার ও নতুন দল গঠনের বিষয়ে তৃণমূলের পরামর্শ গ্রহণের তাগিদ অনুভব করে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি ।এ লক্ষে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল ডা:শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়।এ কমিটি জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার,সম্ভাব্য নতুন দলের গঠন,নেতৃত্ব ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে তৃণমূল নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে সম-আদর্শের ইসলামী দলগুলো কিভাবে চলছে,পরিবর্তিত ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তারা কী কৌশল নির্ধারণ করছে-সেসব তথ্যও সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এ লক্ষে ফেব্রুয়ারীর শেষ দিকে মিশর,তুরস্ক এবং তিউনিশিয়ায় ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় জামায়াত। প্রতিনিধি দলটি মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড সহ তুরস্ক ও তিউনেশিয়ার কয়েকটি ইসলামী দলের নেতাদের সাথে একাধিক বৈঠক করে তাদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণপূর্বক পরামর্শ নিয়ে এসেছে। নির্বাহী সূত্র জানায়,ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং সাবেক শিবির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুকে বহিষ্কারের পর তৃণমূলে তার বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ছিলেন জামায়াতের নীতিনির্ধারকেরা । সারা দেশেই সংস্কারের পক্ষে একটি বলয় তৈরি হয়ে গেছে-এমনটা চাউর হয়েছিল প্রথম দিকে। তখন দলের গুরুত্বপূর্ণ দু’নেতার দলত্যাগের বিষয়ে দলীয় অবস্থান তৃণমূলকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মঞ্জুকে বহিষ্কারের ২/৩ দিনের মধ্যেই ‘দৃষ্টি আকর্ষণী’ নামে দলীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় সংগঠনের সকল স্তরে।এরপরই সংগঠনের সকল স্তরের জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা ও দলের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণের বিষয়ে মজলিশে শূরা সদস্যদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণের বিষয়ে একমত হন দলটির আমীর মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারী জেনারেল ডা:শফিকুর রহমান সহ নির্বাহী পরিষদের সকল সদস্য। এ লক্ষকে সামনে রেখে পুরো মার্চ মাস সারা দেশে সাংগঠনিক সফর করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। জামায়াত সূত্র বলছে,সফরকালে কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করেছেন,একইসাথে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে এবং সংস্কারপন্থীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবী,দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর রিপোর্ট থেকে এ ব্যাপারে জামায়াত নিশ্চিত হয়েছে যে,ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক ও মুজিবুর রহমান মঞ্জুর চলে যাওয়াতে মাঠ পর্যায়ে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা পূর্বের চেয়ে আরো ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন । স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে থাকায় ক্ষমা চাওয়া এবং দলের নাম বিলুপ্তির বিষয়ে যে চিন্তাভাবনা চলছে-সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা কোনো সায় দেননি। ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দলের প্রবীণ নেতাদের ত্যাগ এবং বর্তমান নেতৃত্বের কর্মকৌশলের প্রতি সম্মান ও পূর্ণ আনুগত্য অবিকল আছে-তৃণমূল থেকে এমন বার্তা কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে যুগের প্রয়োজনে দলে প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে-তার উপর পূর্ণ আস্থা থাকবে বলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী। ফলে জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব দলে ভাঙ্গনের কোন শঙ্কা,বিলুপ্তি বা সংস্কারের জন্য চাপ আছে বলে মনে করছেন না। আলোচিত-সমালোচিত দলটির নির্বাহী পরিষদের ঐ সদস্য ‘সংবাদ প্রতিদিন’কে বলেন,’জামায়াত একটি আদর্শিক দল।জামায়াতের জনশক্তি দেশ ও ইসলাম প্রেমে উদ্বুদ্ধ বিধায় ইসলামী আদর্শ প্রচার-প্রসারের কর্মনীতি,কর্মকৌশল এবং এর সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে সকল স্তরের জনশক্তির কমবেশি ধারণা রয়েছে।বিভ্রান্তিমূলক কোনো প্রচারণার ফাঁদে পড়ে আমাদের মাঝে পক্ষ,বিপক্ষ বা সংস্কার পন্থী তৈরি হয়না।নেতিবাচক যা কিছু শুনা যায়,তার সবই সরকারী সংস্থা এবং হলুদ মিডিয়ার তৈরি ।জামায়াত সংঘবদ্ধভাবে দেশ,দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছি। দলে যখন যে সংস্কার প্রয়োজন- সেই সংস্কার আগেও ছিল,এখনো অব্যাহত আছে।নতুন-পুরাতন সকল ইস্যু নিয়েই দলীয় ফোরামে আলোচনা-পর্যালোচনা করে আমরা এগুচ্ছি।

রেটিং দিন

Click on a star to rate it!

Average rating / 5. Vote count:

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here