একটি গ্রামের আত্ব কাহিনী “নাম দাসউরা “

প্রকাশিত: 5:02 PM, October 19, 2019

একটি গ্রামের আত্ব কাহিনী “নাম দাসউরা “

#গ্রামের_নাম_দাসউরা
।।আতাউর রহমান।।

#সূচনা:
প্রাচীন গ্রন্থ ও তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯০১ সনের শ্রীহট্ট গণনায় তিন শ্রেণীর দাস (হালুয়া দাস, দাস ও শূদ্রদাস) সিলেট জেলায় বসবাসের নিদর্শন মিলে। বাঙ্গালি দাস’রা সাধারণত কপালী নামে পরিচিত। দাসরা ছিল পরিশ্রমী ও বলবান; যারা কৃষিজীবি শ্রেণীর অর্ন্তভূক্ত। এই গোষ্ঠীর বিস্তার মূলত বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। কপালীরা ছিল পাট উৎপাদনে পারদর্শী, যার দ্বারা চটের ব্যাগ উৎপাদন করা হতো। এ শ্রীহট্ট পঞ্চখণ্ডে দাস’দের বসবাসের নিদর্শন পাওয়া যায়। তারা সামাজিকভাবে বেশ সম্মানীয় ছিল। তাদের বসবাস ছিল দাসগ্রাম ও মুল্লাপুর এলাকায়।

#নামকরণ: [দাস+উরা(বসতি)= দাসউরা]
ইসলাম প্রচারে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফরসঙ্গী হযরত খাজা শাহ সাহাবুদ্দীন(রহঃ) এর আগমন ঘটে পঞ্চখণ্ডের দক্ষিণাংশে। বসতির উদ্দেশ্যে এখানকার টিল্লার কিয়দাংশ মাটি কেটে তিনি সামিয়ানা নির্মাণ করেন। ফলে এই জায়গাটির নামকরণ হয়ে যায় মাটিকাটা। তখন তিনি দাস সম্প্রদায়ের নব দীক্ষিত এক কন্যাকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে বিবাহ করে এখানে বসতি স্থাপন করেন। তাঁরই এক ছেলের নাম ছিল মুল্লা আলা বখস। তিনি পাশের এলাকায় বসতি গড়ে তুলেন। তাঁরই নামানুসারে বর্তমান ‘মুল্লাপুর’ গ্রাম। মুল্লা আলা বখসের ছিল সাত পুত্র সন্তান। তাদের নাম ছিল- আরন খাঁ, জাকি খাঁ, নকি খাঁ, তকি খাঁ, কিয়ার খাঁ, জাফি খাঁ ও আড়িয়ার খাঁ।

সেই মুল্লাপুর গ্রামের ‘তকি খাঁ’ নামক জনৈক ব্যক্তি বর্তমান দাসউরার উত্তরাংশে টেংরা বাড়ি নামক জায়গায় অবস্থান করে তাদের প্রাচীন দাস-বংশীয় মালিকানাধীন হাকালুকি হাওরের অন্তর্গত পলি ভরাট উর্বরা ভূমিতে ধানসহ সকল রকমের চাষাবাদ শুরু করে বসতি গড়ে তুলেন। তকি খাঁ’র ছিল পাঁচ পুত্র সন্তান। তারা হলেন- আজম খাঁ, বাঘিমালি খাঁ, শেখবাজি খাঁ, বদলফতেহ খাঁ ও গরিবলোদি খাঁ। পরবর্তীতে তাদের বংশধর মিলে ১৪টি তাল্লুক গড়ে তুলে। এই তাল্লুক মালিকদের আদি বসতির নিদর্শন এখনো টেংরা বাড়িতে রয়েছে। ধারণা করা যায়, তারা ‘দাস’বংশীয় তাল্লুক ভুমিতে ‘উরা (বসতি)’ নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। সম্ভবত এই উত্তরাংশের বসতিকে কেন্দ্র করে লোকমুখে (দাস+উরা)= দাসউরা নামকরণ হয়। আবার কারো কারো মতে, এই এলাকাটি ডাউরা নামে পরিচিত। এখানে দাস(বিশেষ্য) শব্দের অর্থ হলো-অনুগত বান্দা। আর উরা (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ হলো- জন্মস্থান। অর্থাৎ দাসউরা মানে- অনুগত বান্দাদের জন্মস্থান।
এখানে একটি আদি গোরস্থান রয়েছে, যে গোরস্থানকে দরগাবাড়ী বলে ডাকা হয়। এ দরগাবাড়ি গোরস্থানে নাম না জানা জনৈক ওলীর মাজার রয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। দূর অতীতে এ দাসউরা ভূখণ্ডে গড়ে উঠে ‘দাসউরা বাজার’। এটি ছিল এক প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র। বাজারের আগের জৌলুস এখন আর নেই। তবুও সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতি, রবি ও মঙ্গলবারে এই হাট বসে। এছাড়াও এখানে দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়, দাসউরা সিনিয়র মাদ্রাসা, ইউনিয়ন অফিস, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্টারগার্টেন, তিনটি জামে মসজিদ, দুইটি পাঞ্জেখানা ও সরকারি গুদামঘর রয়েছে।

#বিশেষ_দ্রষ্টব্য: ভিন্নমত থাকিলে তথ্যসহ যে কোন পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করা হবে।-লেখক।

#লেখক: প্রধান শিক্ষক, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়।
#ফটোক্রেডিট : শাহরিয়ার ইসলাম- শিক্ষার্থী।



এ সংবাদটি 57 বার পড়া হয়েছে.
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

আমাদের মোবাইল এপ্পসটি ডাউনলোড করুন

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার ( দুপুর ১২:৩৬ )
  • ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ৯ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
  • ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

পুরাতন সংবাদ অনুসন্ধান

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

নতুন আঙ্গিকে শাহজালাল টিভি