আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স : মি. ৩৬০ ডিগ্রি

বাইশগজ নামক একটা ক্যানভাস, যেখানে ক্রিকেট নামক খেলাটায় বল নামক জিনিসটাকে রংয়ের মতো ব্যবহার করে ব্যাট নামক তুলির আচঁড়ে নিপুণভাবে শিল্পকর্ম একে যান ক্রিকেট বিশ্বের কেউ কেউ। ক্রিকেটটাকে তারা নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে, যেখানে নিত্যনতুন বাহারী শটে শিল্পকর্মের পসরা সাজিয়ে বসেন তারা। দর্শকের চোখের তৃপ্তি আর মনের খোরাক জুগিয়ে সে শিল্প জায়গা করে নেয় অন্তরের গভীরে। ক্রিকেট ইতিহাস লিখে রাখে তাদের গল্প!

দৌঁড়ে এসে বাইশগজের তামাটে কিংবা সবুজ পিচে প্রচন্ড গতিতে বল করলেন বিশ্বের কোনো এক গতিদানব। বল করলেন না যেন আগুনের গোলা ছুঁড়লেন, এটাও অবশ্য বলা যায়। ধেঁয়ে আসা বলটি পড়লো ঠিক অফস্ট্যাম্পের বাহিরে, লাইন বুঝে নিশ্চিন্তে ব্যাট চালালেন ব্যাটসম্যান এবং দর্শকের চোখের দৃষ্টি ওপরের দিকে। কভার অঞ্চল দিয়ে উড়ে উড়ে বাউন্ডারীর রোপ পেরিয়ে গ্যালারীতে গিয়ে পড়লো ছয় আউন্সের চর্মগোলকটি। ঠিক তখন ক্যামেরার লেন্স ঘুরে গেল গ্যালারীর দিকে, উল্লাসরত দর্শক। এরকম দৃশ্য হুবহু দেয়া যায় ক্রিকেটে।

কিন্তু যখন একজন ব্যাটসম্যান শুয়ে বসে শরীর বাকিয়ে জায়গা করে প্রত্যেকটা বল সীমানা ছাড়া করেন তখন তাকে কি বলবেন? বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে যাবে নিশ্চয়ই? হ্যা, ক্রিকেট নামক খেলাটায় বিস্ময় উপহার দেয়া ব্যাটসম্যানটির নাম আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স! আমরা ভালোবেসে যাকে বলি ‘মিঃ ৩৬০ ডিগ্রী’!

দক্ষিন আফ্রিকার ট্রান্সভালে জন্মগ্রহন করা ডি ভিলিয়ার্স একটা সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন রাগবিও। কিন্তু সবচেয়ে যে খেলাটা তাকে টানতো শেষপর্যন্ত জড়িয়ে পড়লেন সেটার মায়ায়। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির ভিলিয়ার্স জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১১৪ টি টেস্ট, ২২৮ টি একদিনের ম্যাচ এবং ৭৮ টি টোয়েন্টি। সাদা পোশাকের সাথে রঙ্গিন পোশাকের ম্যাচেও আট হাজারের উপরে রান করে চিনিয়েছেন নিজেকে। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসাবে তার উপরে আছেন কেবল সাবেক লংকান স্কিপার কুমার সাঙ্গাকারা।

মজার ব্যাপার হলো, ক্রিকেটের তিন বিভাগেই সফল দক্ষিন আফ্রিকার এই ব্যাটসম্যান। ব্যাটিংয়ে উইলোবাজির পাশাপাশি বোলিংটার সাথে কিপিংটাও করেন অসাধারন। তার বিষয়ে আরেকটা তথ্য হলো, আন্তজার্তিক টি টোয়েন্টি বহুবার ঝড় তুললেও নামের পাশে নেই কোনো শতক। সব মিলিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বিজ্ঞাপন এই দক্ষিন আফ্রিকান। অভিমানের বশে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও খেলে যাচ্ছেন বিভিন্ন ঘরোয়া টি টোয়েন্টি লীগ। ব্যাটিং জাদুতে মুগ্ধতা ছড়িয়ে এখনও সমান জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্তে।

যদি কখনো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাউকে দেখা যায়, বাইশগজে ঝড় তুলছেন অনবরত, বলকে নিপুণভাবে বাহারি শটের মায়ায় আছড়ে ফেলছেন গ্যলারীতে কিংবা বাজপাখির মতো ঝাপ দিয়ে লুফে নিচ্ছেন অসাধারন সব ক্যাচ। তবে ভেবে নিয়েন আবারো বাইশগজে ফিরে এসেছেন আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স, তারুন্যের রূপে! কারন, ভিলিয়ার্স, শচীন কিংবা সাঙ্গাকারারা ফিরে আসেন ক্রিকেট ইতিহাসের পাতা ধরে, আসতে হয়। মহাকাল যে লিখে রাখে এদের গল্প!



এ সংবাদটি 415 বার পড়া হয়েছে.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here