অকালে হারানো গতি তারকা : শন টেইট

during the Big Bash League match between the Melbourne Stars and the Hobart Hurricanes at Melbourne Cricket Ground on January 6, 2016 in Melbourne, Australia.

‘- আমি বোলিং করি ব্যাটসম্যানদের আহত করার জন্য।

-আমি পিচের উপর রক্ত দেখতে পছন্দ করি।’

সত্তর আশির দশক। ফাস্ট বোলারদের রাজত্বকাল। বল তো নয়, যেনো পাথরের গোলা। মোকাবিলায় ব্যাটসম্যানদের সম্বল কেবল ব্যাট আর প্যাড। হেলমেট তখন কেবল সদ্য আবিস্কৃত হয়েছে।

কল্পনা করুন, আপনি সে সময়কার একজন ব্যাটসম্যান। উপরোক্ত উক্তি দু’টি প্রতিপক্ষের প্রধান দুই বোলারের। ভাবুন তো আপনার অবস্থা টা।

হ্যাঁ, এমন ভয়ংকরই ছিলো লিলি-থম্পসন জুটি। এদের সামনে কম্পমান ছিলো স্বয়ং ক্লাইভ লয়েডের তৎকালীন অপরাজেয় ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।এই জুটির পর রিচি বেনো আর ম্যাকগ্রার হাত হয়ে এসে সেই যে জৌলুস হারিয়েছে অজি ফাস্ট বোলিং, আজো থিতু হতে পারেনি। হতে পারতো, সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো, আশা দেখিয়েছিলেন একজন।

৬ ফিট ৪ ইঞ্চির দ্রুতগতির এক ডানহাতি ফাস্ট বোলার। গতিশীল সম্ভাবনাময় এই ফাস্ট বোলারের সাথে ব্রেট লি’র জুটি কে দর্শকরা নাম দিয়েছিলেন ‘লি-টেইট জুটি’। ‘লিলি-থম্পসন’ জুটির উত্তরসুরী হিসেবে। সেই ভরসার প্রতিদান দিতে পারেন নি শন টেইট।

২০০৫ এর আগস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেষ্ট অভিষেক। তর্ক সাপেক্ষে সর্বকালের সেরা পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা অবসরে যাননি তখনো। ওয়ানডে অভিষেক ২০০৭, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। ছিলেন বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। শেষ টেষ্ট খেলেছেন ২০০৮ এর জানুয়ারিতে, ভারতের বিপক্ষে। খেলেছেন সর্বসাকুল্যে ৩ টি টেষ্ট। ৩৫টি ওয়ানডে। উইকেটসংখ্যা যথাক্রমে ৫ এবং ৬৮।

এতো সম্ভাবনা জাগিয়েও এভাবেই হারিয়ে গেলেন কেনো টেইট? মূলত ইঞ্জুরির কাছেই হার মেনেছিলেন তিনি। ইঞ্জুরির কারনে ক’দিন পরপর বাদ পড়া, অনিয়মিত খেলায় ফর্ম হারিয়ে ফেলা এই বোলার তাই দল থেকে বাদ পড়ে গেছিলেন সহজেই। মাত্র ২ বছর ৫ মাসের টেষ্ট ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময়টাই কেটে গেছে ইঞ্জুরিতে৷ ম্যাকগ্রা পরবর্তী অস্ট্রেলিয়া যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিলো একজন নিয়মিত এবং কার্যকরী ফাস্ট বোলারের খোঁজে, ইঞ্জুরি আক্রান্ত টেইটের উপর তাই ভরসা রাখতে পারেনি অজি নির্বাচকরা।

শেষ ওয়ানডেটাও খেলেছিলেন সেই ২০১১ সালে। এরপর আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন, বিপিএলে চিটাগাং কিংসের হয়েও খেলেছিলেন এক সিজন, সেটাও আবার ২০১৩ তে। বিগ ব্যাশে খেলেছেন একাধিক দলের হয়ে।

১৭১টি টি-২০ খেলে পেয়েছেন ২১৮ টি উইকেট। এছাড়া কাউন্টি ক্লাব ডারহাম ও এসেক্সের হয়েও খেলেছিলেন সর্বমোট তিন সিজন। কিন্তু আর ডাক পাননি জাতীয় দলে। অবশেষে ২০১৭ সালের মার্চে ৩৫ বছর বয়সে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন এই ফাস্ট বোলার।



এ সংবাদটি 329 বার পড়া হয়েছে.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here